বাংলাদেশের মানুষেরা পৃথিবীর সেরা : পর্তুগিজ এমপি
সফলভাবে হজ পরিচালনার পর শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে ওমরাহ
ছিন্নমূল অসহায়, অনাথ মানুষের মুখে ‘ভালো খাবার’ তুলে দিলেন হিরো আলম
কবে ওদের প্রাণ ভরে ভালোবাসব
কলেজশিক্ষক আমিনুলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় জেল–জরিমানা
সুনামগঞ্জে করোনা রোগী দেড় হাজার ছাড়াল
করোনাভাইরাসে মারা গেলেন আরও ৫০ জন
দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১,৯১৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত
ফেনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরীর মৃত্যু
ভয়াল রূপে ধেয়ে আসছে হ্যারিকেন ইসাইয়াস
খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সিও যখন অবসরে
Wednesday, August 5, 2020

নিলামে উঠছে সালমান শাহের টিশার্ট ও মাথার ব্যান্ড

493
SHARES
1.4k
VIEWS

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃ’ত্যুর দুই যুগ পর নিলামে তোলা হচ্ছে তার প্রিয় লাল রঙের টিশার্ট এবং মাথায় পড়া ব্যান্ড। তবে কবে নাগাদ কোন প্লাটফর্ম থেকে নিলামে তোলা হবে তা এখনো ঠিক করা হয়নি।

যে টিশার্টটি নিলামে তোলা হচ্ছে তা ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমায় পড়ে অ’ভিনয় করেছিলেন সালমান শাহ। এ ছবিতে সালমান শাহের বিপরীতে ছিলেন মৌসুমী। আর মাথায় পড়া ব্যান্ডটি পড়ে অ’ভিনয় করেছিলেন ‘শুধু তুমি’ সিনেমায়।
জানা যায়, মামুনুর রেজা মামুন নামে এক সালমান ভক্ত ১৯ বছর ধরে নিজ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন সালমান শাহের টিশার্ট ও ব্যান্ডটি। এতদিন পর তিনিই এটি নিলামে তুলতে যাচ্ছেন।

সালমান শাহের ব্যবহৃত টিশার্ট ও মাথার ব্যান্ড কোথায় পেলেন জানতে চাইলে মামুনুর রেজা মামুন সময় সংবাদকে বলেন, সালমান শাহের একজন অন্ধ ভক্ত আমি। প্রিয় নায়কের যখন বিদায় নিলেন তার আগে থেকে তার পরিবারের সাথে আমা’র সম্পর্ক ছিল।
সালমান শাহর মা নীলা আন্টি এবং তার বাবা কমর’ আঙকেলের সাথে দেখা করার জন্য তাদের বাসায় যাই। তখনই আবেগে আর্ট করে একটি কাগজের উপরে বাংলাদেশের মানচিত্রে মাঝে এবং চারদিকে সালমান শাহর ছোট ছোট ফটো বসিয়ে বাধাই করে সালমান এর মা বাবাকে উপহার দেই। তখনই থেকেই সম্পর্ক আরো ভালো হয়।’

তিনি বলেন, সম্পর্ক ভালো হওয়ায় মাঝে মাঝে তাদের বাসায় যাতায়াত করতাম। আর নীলা আন্টিও বেশ আদর করতেন। একদিন আন্টিকে বললাম আমা’র প্রিয় নায়কের স্মৃ’তিচিহ্ন রাখার মতো কিছু তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেন। তখন আন্টি রুমে গিয়ে আলমা’রি খুলে এই টিশার্ট আর ব্যান্ডগু’লো আমাকে দেন। তখন সালমান শাহের জন্য খুব কেঁদেছিলাম। আজ এসব নিলামে দিচ্ছি।’
কি কারণে নিলামে তুলতে চাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে তেমন কোনো কারণ নেই।

মূলত করো’নাকালে মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য আমি নিলামে তুলতে যাচ্ছি। আর আমি চাই প্রিয় নায়কের ব্যবহৃত জিনিস অন্য কেউ সংরক্ষণ করুক।
বাংলা চলচ্চিত্রের অবিস্মর’ণীয় এক যুগের সৃষ্টিকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নায়ক সালমান শাহ। বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আসেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন ওরফে সালমান শাহ। ১৯৭১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সিলেট জে’লায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজে’লায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রা’প্ত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‌‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এ প্রথম অ’ভিনয় করার পর থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে ভরসার প্রতিশব্দ হয়ে ওঠেন এ নায়ক।
৯০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে অ’ভিনয় করা এ অ’ভিনেতার বেশিরভাগ চলচ্চিত্র হয়েছিল তুমুল নন্দিত-নিন্দিত ও ব্যবসাসফল। মাত্র তিন বছরের অ’ভিনয় জীবনে এমন দর্শকপ্রিয়তা চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল।
সালমান শাহ অ’ভিনীত ছবিগু’লোতে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি। নব্বই দশকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অন্যরকম ফ্যাশন স্টাইল যোগ করেন তার অ’ভিনীতে সিনেমাগু’লোর মাধ্যমে।

সালমান সিনেমায় যে স্টাইল করতেন তাই হয়ে যেত তরুণদের স্টাইল। স্ট্রিট রোমিওদের ফ্যাশন গু’রু সালমান শাহ। তরুণীদের কাছেও ছিলেন ভালোবাসার অ’পূর্ণতার নাম। সেসময় কিশোরীর ঘর জুড়ে পোস্টার আর ডোয়ারে ভর্তি ছিল ভিউকার্ড।
ছোট চিপের ব্যাকব্রাশ করা চুলের ডিজাইন, কানে দুল, মাথায় রঙ বেরঙের টুপি ক্যাপ এখনও তরুণদের স্টাইল। চোখে গোল ফ্রেমের কালো চশমা, স্ট্রিট জিন্স প্যান্টের হাঁটুতে রুমাল বাধার এমন অসংখ্য স্টাইল পর্দায় যোগ করেছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যান এই জনপ্রিয় নায়ক। তবে মৃ’ত্যুর আগে চার বছরের ক্যারিয়ারে অনন্য এক রেকর্ড গড়ে যান। রহস্যজনক মৃ’ত্যুর ২৪ বছর পর চলতি বছরে ২৪ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় এ নায়কের মৃ’ত্যুর ত’দন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে পিবিআই।
of
এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহকে হ’ত্যা করা হয়নি; তিনি আ’ত্মহ’ত্যাই করেছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই প্রধান বনজ কুমা’র মজুম’দার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আ’ত্মহ’ত্যা করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এমন তথ্য উঠে এসেছে পিবিআইয়ের ত’দন্ত প্রতিবেদনে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার ত’দন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে বনজ কুমা’র বলেন, ৪৪ জনের জবানব’ন্দিসহ সার্বিক ত’দন্তে দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন। হ’ত্যার অ’ভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তবে সালমান ভক্তদের জোড় দাবি তাকে হ’ত্যাই করা হয়েছিল। অন্যদিকে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। এ নিয়ে সালমান শাহের ছোট ভাই সংবাদ সম্মেলন করে ব্যাখ্যাও দেন।

প্রস’ঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ১১/বি নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহা’ম্ম’দ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর লা’শ উ’দ্ধার করা হয়। সেসময় এ বি’ষয়ে অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা কমর’উদ্দিন আহম’দ চৌধুরী।
পরে ছেলেকে হ’ত্যা করা হয়েছে অ’ভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মাসে মা’মলাটিকে হ’ত্যা মা’মলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান সালমান শাহের মা।

অ’পমৃ’ত্যু মা’মলার স’ঙ্গে হ’ত্যাকাণ্ডের অ’ভিযোগের বি’ষয়টি একস’ঙ্গে ত’দন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আ’দালত।
ত’দন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আ’দালতে মা’মলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। সেখানে সালমান শাহ’র মৃ’ত্যুকে আ’ত্মহ’ত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মা’মলা করা হলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মা’মলাটি বিচার বিভাগীয় ত’দন্তে পাঠান আ’দালত। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃ’ত্যুকে অ’পমৃ’ত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।